
বাংলার খবর ডেস্ক:আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ভিন্নধর্মী প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জনআকাঙ্ক্ষা ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আগামী সংসদকে ‘মেধাবীদের সংসদ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। সে কারণে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তরুণ ও ক্লিন ইমেজসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে প্রাথমিক তালিকা তৈরি হবে এবং তপশিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা, এলাকার জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা, মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিতর্কমুক্ত ইমেজ—এসব মানদণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো এবার একাধিক প্রার্থীর প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার পরিবর্তে বিএনপি প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী মনোনয়নের পরিকল্পনা করছে। তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আসতে পারে নতুন চমক।
নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তপশিল ঘোষণা করবে কমিশন। সেই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তারা উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, কর্মিসভা, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক-ধর্মীয় নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করছেন।
দলীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রার্থিতা চূড়ান্ত না হলেও কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের ইঙ্গিত পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হাইকমান্ডে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি আসনে অনেক প্রার্থী থাকলেও যাচাই-বাছাই শেষে একক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, যোগ্যতা, মেধা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ইতিমধ্যে মাঠ জরিপ সম্পন্ন করেছে। এসব জরিপে দেখা হচ্ছে কোন প্রার্থী এলাকায় কতটা জনপ্রিয়, কে বিজয়ের সম্ভাবনা রাখেন এবং কার রাজনৈতিক ইমেজ ভালো। পুরো প্রক্রিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘনিষ্ঠভাবে তদারকি করছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। এ বোর্ডে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং এর নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান। বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পুরোনো ও একাধিকবার নির্বাচিত প্রার্থীদের কিছু আসনে বাদ দিয়ে তরুণদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। এতে অন্তত দুই ডজন জ্যেষ্ঠ নেতার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে বলে জানা গেছে।
দলীয় কৌশলবিদদের মতে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করতে চায়। এজন্য মেধাবী, তরুণ এবং নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা হবে। দলটি মনে করছে, এভাবেই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং বিজয়ের সম্ভাবনা শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।