
বাংলার খবর ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন।
পরে দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত দিবসটির শুভেচ্ছা জানান। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের স্মরণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তাঁর মতে, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পর পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরে আসে। এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব ও খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
সিপাহি-জনতার সংহতির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতির সংকটকালে দেশের প্রশ্নে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার ধারাবাহিকতা থেকেই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের নেতৃত্ব জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও কর্মপ্রাণ। তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করা হয়। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মো. রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রিয়াদস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধি ডা. গোলাম হাসনাইন সোহান, মামুনুর রশিদ চৌধুরী, হামিদুল হক শামীম ও বিপ্লব হোসেন আজাদ।
এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রিয়াদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।