
আবু সায়েম মোহাম্মদ সা'-আদাত উল করীম:
জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রাশেদা পারভীন, মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেলোয়ার হোসেন, চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রোকসানা আক্তার এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।
কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক জানিয়েছেন, কমিটির সদস্যদের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জামালপুর সদর উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার সাবেরী শারমিন গত ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, তাঁর ডিম্বনালী ও ডিম্বাশয়ে সংক্রমণ রয়েছে এবং ডান ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্ট হয়েছে। পরে ২৯ জানুয়ারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে তাঁদের সম্মতি ছাড়াই সাবেরী শারমিনের জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশ কেটে ফেলা হয়। তবে সেগুলো সম্পূর্ণ অপসারণ না করায় কিছু অংশ শরীরে রয়ে যায়। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় পেটের তিন স্থানে নাড়ি ছিদ্র হয়ে যায়। এর ফলে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্বজনেরা তাঁকে ঢাকার ধানমন্ডিতে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন সেখানে তাঁর দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। স্বজনদের দাবি, ওই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা আগের অস্ত্রোপচারে ত্রুটি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর ২০ জুন একই হাসপাতালে চতুর্থবার অস্ত্রোপচার করা হয়।
রোগী ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এম. এ. রশীদ হাসপাতালে চিকিৎসার পেছনে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। পরবর্তী সময়ে দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা বাবদ তাঁদের মোট প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে সাবেরী শারমিন অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এখন পাঁচ সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে।