
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার লখনাউক গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে কীটনাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের সাড়ে চার কানি জমির টমেটো ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকের ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি সম্ভাব্য ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সেখানে কাজ করা শ্রমিকেরাও।
ভুক্তভোগী কৃষক শফিকুল ইসলাম (৫০) লখনাউক গ্রামের মৃত মস্তু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৬ তারিখ রাতে কোনো এক সময় তাঁর টমেটো ক্ষেতে ঘাস মারার ওষুধ বা অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরদিন সকালে প্রতিদিনের মতো ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে গাছগুলো ঝলসে মরে যেতে দেখেন। পরে তাঁরা শফিকুল ইসলামকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শফিকুল ইসলাম জানান, ১৭ হাজার টমেটোর চারা দিয়ে তিনি সাড়ে চার কানি জমিতে আবাদ করেছিলেন। প্রতিটি চারা ১৮ টাকা করে কিনেছিলেন তিনি। গত চার মাস ধরে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক এই ক্ষেতে কাজ করেছেন। চারা, সার ও শ্রমিকদের মজুরিসহ এ পর্যন্ত তাঁর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গাছে প্রচুর টমেটো ধরেছিল। আর কিছুদিনের মধ্যেই ফলন বাজারজাত করার উপযোগী হতো। কিন্তু ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
পাশের জমির কৃষক রাফান বলেন, “সকালে জমিতে এসে দেখি সব গাছ মরে গেছে। তখন আমি দ্রুত শফিকুল ভাইকে ফোন করে ডেকে আনি।”
এদিকে, ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সেখানে কাজ করা শ্রমিকেরা। তাঁরা জানান, ঘটনার আগের দিনও তাঁরা স্বাভাবিকভাবে ক্ষেতে কাজ করে গেছেন। কিন্তু পরদিন সকালে এসে দেখেন, তাঁদের নিয়মিত কাজের ক্ষেতটি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তাঁর মতে, কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কৃষকের অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় এই জমি থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ফলন পাওয়া যেত।
এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে কৃষি কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে কীটনাশক প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা মামলা দায়েরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।