
পারভেজ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় খেলার মাঠের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিংহ ও করাব গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে করাব গ্রাম ও সংলগ্ন বুল্লা বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেলার মাঠে সিংহ গ্রামের কয়েকজন তরুণের সঙ্গে করাব গ্রামের কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে করাব গ্রামের এক খেলোয়াড় বুল্লা বাজারে এলে সিংহ গ্রামের কয়েকজন যুবক তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় করাব গ্রামের ভেতর দিয়ে হবিগঞ্জ যাতায়াতের সড়কে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই শুরু করেন করাব গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা।
এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী সিংহ গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ মিয়াকে গাড়ি থেকে নামিয়ে করাব গ্রামে আটকে রাখা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে সিংহ গ্রামের উত্তেজিত লোকজন পাশের বুল্লা বাজারে জড়ো হতে থাকেন। সংবাদ পেয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফরহাদ মিয়াকে উদ্ধার করে নিরাপদে সিংহ গ্রামে পৌঁছে দেয়।
ফরহাদ মিয়াকে উদ্ধারের পর ওই রাতেই সিংহ গ্রামে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ২৬ অক্টোবর সিংহ গ্রামের কোনো বাসিন্দা করাব গ্রামের পথ দিয়ে হবিগঞ্জে যাতায়াত করেননি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে, করাব গ্রামের লোকজন ওই সড়কে চলাচলকারী বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টমটম থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুনেশ্বর গ্রামের এক সিএনজি যাত্রী জানান, স্ত্রীকে নিয়ে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে করাব গ্রামের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন তাঁদের গাড়ি থামিয়ে তাঁরা সিংহ গ্রামের বাসিন্দা কি না, তা জানতে চান। পরে সুনেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের তল্লাশির ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, বিরোধের প্রভাব পড়েছে লাখাইয়ের আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুল্লা বাজারে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, করাব গ্রামের বাসিন্দারা বাজারে যাতায়াত বন্ধ রেখেছেন। বাজারটিতে করাব গ্রামের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২৬ অক্টোবর দিনভর এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। করাব গ্রামের সিএনজি, অটোরিকশা ও রিকশাচালকদেরও বাজারে আসতে দেখা যায়নি। এতে বাজারের স্বাভাবিক বেচাকেনা ও যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই গ্রামের বিরোধে আভিজাত্য ও আধিপত্যের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মাতব্বরেরা স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে থানা পুলিশের পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। করাব গ্রাম ও বুল্লা বাজারে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল ও নজরদারি রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।