
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব কলা পাকানোর অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কৃত্রিম উপায়ে কলা পাকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুল্লা, কালাউক, বামৈ ও মুড়াকড়ি বাজারের বিভিন্ন কলার আড়তে অপরিপক্ব কলা পাইকারি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব কলা স্থানীয় খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হয়। তবে কলা পাকাতে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, কাঁচা কলা দ্রুত পাকিয়ে আকর্ষণীয় রং আনতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ প্রফিট, মার্শাল, হিলডন, রাইজার, বাসুডিন, ইথিলিন ও রাইপেন নামের বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব পদার্থের প্রকৃত ব্যবহার, কলায় প্রয়োগের ধরন এবং অবশিষ্টাংশের মাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কলা অস্বাভাবিক দ্রুত হলুদ হয়ে যায়। বাইরে থেকে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও সেগুলো নিরাপদ কি না, তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্য পাকাতে অননুমোদিত রাসায়নিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই কলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বিধান সোম জানান, রাসায়নিক মিশ্রিত কলা খাওয়ার পর বমি ভাব ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, বাজারে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, কলার নমুনা পরীক্ষা এবং অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কলা ও অন্যান্য ফলের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।