
বাংলার খবর ডেস্ক
‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র ও জাতীয় নীতিতে বিশ্বাস করে না, এমন কিছু অপশক্তি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পোশাকশিল্প ও কলকারখানায় সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের পেছনে সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারের অর্থায়ন এবং দেশের ভেতরের কিছু রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বাইরে থেকে অর্থ পাঠিয়ে দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপতৎপরতা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি জানান।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মারক নির্মাণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসায় বিএনপি পাশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার দাবি করা দলগুলোকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের মানুষের প্রত্যাশা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা চায়। ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ যেভাবে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ভবিষ্যতেও সেই সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের স্বার্থে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।