
বাংলার খবর ডেস্ক
আগামীকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিতে একই দিনে বন্দরনগরীতে আসছেন তাঁরা। তাঁদের আগমন ঘিরে চট্টগ্রাম নগর ও জেলাজুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ ও এসআরবি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, গুজব ও নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য পুলিশ প্রটোকলসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় সামরিক বিমানে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁর আন্দরকিল্লার জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে পৌনে ৭টা পর্যন্ত অবস্থান করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাঁদের দাবি-দাওয়া শুনবেন তিনি।
পরে সন্ধ্যা ৭টায় কাজীর দেউড়ির পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি নেতারা জানান, সভায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী অংশ নেবেন। গত ৮ আগস্টের সভার তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম রাখা হয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা। এ ছাড়া সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। তাঁকে স্বাগত জানাতে নগরের লালখান বাজার থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে রং ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সৌরভ প্রিয় পালন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর আগমন পূজার আনন্দ আরও বাড়িয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী থেকে সরাসরি সামরিক বিমানে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামে আসবেন। জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থানের পর তিনি সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সেখানে ৫০০ নেতাকর্মী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এরশাদ উল্লাহ আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কমান্ড মেনে সংগঠন পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিতে পারেন। কোনো নেতা বা কর্মী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে দলে তাঁর জায়গা হবে না—এমন বার্তাও দেওয়া হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সম্প্রীতি রক্ষা করা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপে আসছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের নেতারা জানান, বিমানবন্দর থেকে তিনি নগরের চকবাজারের সাফা অর্কিড কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত আয়োজিত ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশে যোগ দেবেন। সেখানে আসন্ন নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরে দুপুর ১২টার মধ্যে জিইসি কনভেনশন হলে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। কর্মসূচি শেষে বিকেলে তাঁর ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সকালে চট্টগ্রামে এসে উত্তর জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সাবেক সাথী ও সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে জামায়াত আমির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ দুটি কর্মসূচি ছাড়া তাঁর অন্য কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানান তিনি।