
লাখাই প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে স্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মানহানি ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত তরুণ ও তাঁর পরিবার। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এক লাখ টাকা জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সালিশের বিচারকরা।
জানা যায়, ‘এলিয়ান আপু’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তেঘরিয়া এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও আপত্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা প্রযুক্তি ও সাইবার ব্যবস্থার সহায়তায় তিন দিনের মধ্যে আইডিটি পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাঁদের দাবি, আইডিটির পেছনে ছিলেন মাহমুদুল নামে এক তরুণ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় তেঘরিয়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিষয়ে জরুরি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লাখাই উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম আলম।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লাখাই উপজেলা উলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আমির হোসেন ফারুকী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম মিলন, মোহাম্মদ হৃদয় চৌধুরী, মো. তাজুল হক, আবুল ফয়েজ, বর্তমান ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মিয়া এবং মো. সামসু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সালিশে অভিযুক্ত মাহমুদুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। মাহমুদুল ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে ‘এলিয়ান আপু’ আইডিটি নিজে পরিচালনা করতেন বলে স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে তিনি ও তাঁর পরিবার গ্রামবাসীর কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং অঙ্গীকারনামা দেন।
সালিশের সভাপতি আমিরুল ইসলাম আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও চরিত্রহনন বা সম্মানহানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এলাকায় কেউ ভুয়া আইডি খুলে এ ধরনের অপপ্রচার বা সাইবার অপরাধে জড়ালে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সালিশে উপস্থিত মুরুব্বি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ যুবসমাজকে ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তেঘরিয়া গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।