

পারভেজ হাসান, প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে একটি পুকুরের পানিতে মুরগির খামারের বর্জ্য ভাসতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পানিদূষণের আশঙ্কার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুলকানি ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যার অভিযোগ ঘিরে বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে পুকুরের পানিদূষণের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সম্প্রতি লাখাইয়ের একটি পুকুরের পানিতে সাদা রঙের বিপুল পরিমাণ বস্তু ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এগুলো মুরগির খামারের বর্জ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত উপকরণ ও অন্যান্য আবর্জনা। তবে এসব বস্তু কী এবং কীভাবে পুকুরে এসেছে, তা সরেজমিনে তদন্ত ও পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পুকুরে নিয়মিত মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য মিশলে পানির স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হতে পারে। পুকুরের পানি গোসল, কাপড় ধোয়া কিংবা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হলে মানুষের দূষিত পানির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অপরিষ্কার পানির সংস্পর্শে ত্বকের সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু খামারে বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব বর্জ্য পুকুর, খাল কিংবা অন্যান্য জলাশয়ে মিশলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট খামার, বর্জ্যের প্রকৃতি এবং দূষণের প্রকৃত উৎস এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে পুকুরের পানির গুণগত মান নির্ণয়ে নমুনা পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পানিতে ক্ষতিকর জীবাণু বা দূষণকারী উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চুলকানি ও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এসব সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুরের পানির নমুনা পরীক্ষা এবং আশপাশের খামারগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হোক। নিয়মবহির্ভূতভাবে জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুকুরের পানিতে সত্যিই খামারের বর্জ্য মিশে থাকলে তা বন্ধে দায়িত্ব নেবে কে? জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।