
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই ও অন্যান্য মালামাল পাচারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। মালামালসহ পিকআপ আটকের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন মালামাল একটি পিকআপ ভ্যানে (ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১) তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা পিকআপটি মালামালসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পরদিন ৮ মে লাখাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলা নম্বর-০৯। পরবর্তী সময়ে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার রাতে পিকআপে মালামাল তোলার সময় সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপর শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন সুপার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে রাতের বেলা সরকারি মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মাদ্রাসায় এর আগে ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তে ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মামলার নথি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য তা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে অনুমোদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে লাখাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলাটি বর্তমানে দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে। দুদকে হস্তান্তর হওয়ার কারণে এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সরাসরি করণীয় নেই। তবে অভিযুক্তদের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।
দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।