

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শরতের নরম রোদ পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা। এমন স্নিগ্ধ পরিবেশে গান, কবিতা, নৃত্য ও লোকজ সংস্কৃতির বর্ণিল আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ মাঠ।
চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুক্রবার (২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
উৎসবকে ঘিরে উপজেলা পরিষদ মাঠ পরিণত হয় কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলায়। পাহাড়, সমতল ও চুনারুঘাটের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি উঠে আসে একই মঞ্চে।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও পরিষদের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
পরে মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় ধামাইল, ঝুমুর, সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী বাহা নৃত্য, মণিপুরি ও ত্রিপুরাদের হোজাগিরি নৃত্য এবং সমবেত নৃত্য। ছিল নাট্য পরিবেশনা, সংগীতানুষ্ঠান ও গাজীর গীত। প্রখ্যাত শিল্পী লালন দেবের সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আনন্দের সৃষ্টি করে। গান ও নৃত্যের তালে তালে দর্শকদের হাততালিতে উৎসবস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
উৎসবের একপর্যায়ে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জন্মোৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
শুক্রবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সল উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের উপস্থিতির কথাও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
উৎসবের আয়োজকেরা জানান, পাহাড়, সমতল ও ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ চুনারুঘাটের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচয় তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের বন্ধন আরও দৃঢ় করাও উৎসবের অন্যতম প্রত্যয়।