
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি :
বর্ষার পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার জটলায় লাখাইয়ের হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। খাল-বিল ও ফসলি জমি কচুরিপানায় আটকে যাওয়ায় ব্যাহত হয় নৌযান চলাচল, কৃষিকাজ ও মাছ চাষ। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কচুরিপানা অপসারণে বাড়তি খরচও কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই স্থানীয় কৃষকদের তৈরি সাশ্রয়ী কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় উদ্যমী কৃষক জামাল মিয়া, বেলন মিয়া ও মো. শামীম মিয়া নিজেদের মেধা ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করেছেন আধা-স্বয়ংক্রিয় এ যন্ত্র। সাধারণ একটি নৌকার সঙ্গে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও বিভিন্ন স্থানীয় কলকব্জা সংযুক্ত করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
উদ্ভাবকদের দাবি, যন্ত্রটি ব্যবহার করে অল্প সময়ে বড় এলাকার ঘন কচুরিপানা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যে কাজ করতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও হাজার হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তুলনামূলক কম খরচে সেই কাজ করা যাচ্ছে। এতে কৃষকদের সময় ও শ্রমের পাশাপাশি অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় কচুরিপানার কারণে অনেক খাল-বিল ও কৃষিজমি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কচুরিপানার কারণে ফসলি জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মাছ চাষেও সমস্যা দেখা দেয়। নতুন যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে এসব সমস্যা দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যন্ত্রটির সাহায্যে কচুরিপানা পরিষ্কার করে অবরুদ্ধ খাল-বিল ও কৃষিজমি আবারও ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিও চাষের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের এ উদ্ভাবন অত্যন্ত চমৎকার। এটি হাওড়ের কৃষকদের দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ উদ্ভাবনের বিষয়ে অন্য কৃষকদেরও অবহিত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, উদ্ভাবিত যন্ত্রটির আরও উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন হাওড়াঞ্চলে কচুরিপানা অপসারণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে তৈরি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কৃষকদের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।