

জালাল উদ্দিন লস্কর,স্টাফ রিপোর্টার :
সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লিখক সমিতির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চারাভাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে দলিল লিখকরা তাদের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন এবং দাবিগুলোর পক্ষে বক্তব্য দেন। এ সময় দলিল লিখক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম খান, মানরুল হোসেন, সৈয়দ রশিদুল ইসলাম,শরীফ উদ্দিন সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লিখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। দলিল লিখকদের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই রাখতে হবে। তাদের দাবি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না।
তারা আরও বলেন, অনলাইন পদ্ধতিতে দলিল সম্পাদনের পরিবর্তে বর্তমানে প্রচলিত দলিল সম্পাদন পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে। পাশাপাশি সাবেক আইনমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি দলিলের বিপরীতে দলিল লিখকদের ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
মানববন্ধনে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লিখকদের পেশাচ্যুত না করা; প্রতিটি দলিলের বিপরীতে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা; লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লিখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল লেখা বা মুসাবিদা করার সুযোগ না দেওয়া; থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লিখকদের বিশ্রাম ও নামাজের স্থান নির্মাণ করা; পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয় বিধায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে দলিল লিখকদের আসামি না করা; দলিল লিখক সমিতির থানা ও জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া নতুন ব্যক্তিকে দলিল লেখার লাইসেন্স না দেওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা এবং দলিল লিখকদের দলিল কবলা/দলিল পাঠের অনুমতি দেওয়া।
বক্তারা বলেন, দলিল লিখকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিয়মে মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত দলিল লেখার কাজ করে আসছেন। তাদের পেশা ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে দলিল লিখকদের সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।