
ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করে ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বিধিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়সীমা ছিল ৫ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ১ লাখ টাকা।
ব্যয়সীমার পাশাপাশি জামানতের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হলফনামায় দেশ ও বিদেশে থাকা সব ধরনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়ম রোধে ইসির ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। লিখিত প্রতিবেদন বা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে কমিশন। ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, কারসাজি বা গুরুতর অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে ইসি।
দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে আগের মতো লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে না। সমভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তার জন্য ২১ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী কোনো ব্যক্তিকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সহায়তাকারী হতে পারবেন না।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের হুমকি, বাধা বা হামলা এবং কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল বা প্রত্যাহারে বাধ্য করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।