
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুল্লা বাজার। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিকতার ছোঁয়া ও পরিবর্তনের হাওয়ায় বাজারটির পুরোনো অনেক চিত্র হারিয়ে গেলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে এর গৌরবময় ঐতিহ্য। একসময় জমজমাট কলার হাট, পানের হাট ও মাছবাজারের কোলাহলে মুখর থাকলেও এখন সেই জায়গাজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ছড়াচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত শুটকি ও শীদলের বাজার।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় বুল্লা বাজারের ওই অংশটি ছিল ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র। সকাল থেকেই দূরদূরান্ত থেকে আসা পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠত কলার হাট, পানের হাট ও মাছবাজার। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার ধরন ও মানুষের চাহিদায় পরিবর্তন আসায় এসব হাটের পরিধি কমেছে। তবে ব্যতিক্রম হয়ে টিকে আছে শুটকি ও শীদলের বাজার।
বর্তমানে শুধু নির্দিষ্ট হাটবারে নয়, প্রায় প্রতিদিনই এখানে বসে শুটকি ও শীদলের জমজমাট বেচাকেনা। স্থানীয় নদী-নালা ও হাওরাঞ্চলের দেশীয় মাছ দিয়ে তৈরি শুটকি এবং ঐতিহ্যবাহী শীদল কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা। লাখাইয়ের পাশাপাশি হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এবং দূর-দূরান্ত থেকেও পাইকার ও সৌখিন ক্রেতারা এখানে আসেন এসব পণ্য সংগ্রহ করতে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ব্যবসার সঙ্গে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। দেশীয় মাছের তৈরি শুটকি ও শীদলের স্বাদ এবং গুণগত মানের কারণে ক্রেতাদের কাছে এর আলাদা কদর রয়েছে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক পুরোনো হাট-বাজারের ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও বুল্লা বাজারের শুটকি-শীদলের হাট এখনো সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। স্থানীয়দের মতে, মানুষের আগ্রহ ও ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকলে এই ঐতিহ্যবাহী বাজার ভবিষ্যতেও বুল্লা বাজারের স্বতন্ত্র পরিচয় হয়ে টিকে থাকবে।