

বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি দাবি করেছেন, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত তাঁরই ছিল।
মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তাঁর ভাষ্য, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন ওঠে। এরপর বাংলাদেশ দল, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
আসিফ নজরুল দাবি করেন, সে সময় ভারতের পরিবর্তে অন্য কোনো ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কাসহ অন্য ভেন্যুতে ম্যাচ নেওয়ার বিষয়ে কিছু দেশের সমর্থনও পাওয়া গিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বাংলাদেশের দাবি ছিল ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে আয়োজন করা, কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
আসিফ নজরুল বলেন, তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি বিষয় কাজ করেছে—দেশের মর্যাদা, ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন সামনে রেখে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। তাঁর দাবি, ভারতে বাংলাদেশ দলকে নেওয়ার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও প্রত্যাশিত যোগাযোগ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—সে সময় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে সেই আশঙ্কা দূর হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আসিফ নজরুল তাঁর সিদ্ধান্তকে সঠিক দাবি করে বলেন, ছোট দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে কেউ ইচ্ছেমতো আচরণ করবে এবং বাংলাদেশ তা মেনে নেবে—এমন প্রত্যাশা ঠিক নয়। তিনি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে, একই দিনে প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তকে মূলত দায়ী করা হয়েছে। কমিটির মতে, ওই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও একমত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং তাঁদের অনাগ্রহের কারণে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়নি।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য বিসিবি আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।