

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুরের মা মণি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতি ঝুমা আক্তারের পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা চিকিৎসাগত ও প্যাথলজি পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। একই সঙ্গে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে করা উচ্চতর বায়োপসি (হিস্টোপ্যাথলজি) পরীক্ষায় রোগীর অন্ত্রে ক্যানসার বা যক্ষ্মা (টিবি) থাকার কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই মাধবপুরের শ্রীধরপুর গ্রামের প্রসূতি ঝুমা আক্তারকে মা মণি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তাঁর সন্তান জন্ম হয়। পরে পেটে তীব্র ব্যথা দেখা দিলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সিজারের সময় পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করা হয়েছে। অভিযোগের পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ভর্তি রেখে তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিল। তাদের ভাষ্য, রোগীর পেটে পানি জমা ও জটিলতা দেখা দেওয়ায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে সিলেটে রেফার করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিলেটে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে রোগীর অন্ত্রে যক্ষ্মা (টিবি) এবং এর ফলে খাদ্যনালিতে ব্লকেজ তৈরির আশঙ্কা করেন। পরে এ আশঙ্কায় রোগীর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংগৃহীত টিস্যু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সম্প্রতি ইবনে সিনা হাসপাতালের বায়োপসি বা হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদনে ওই টিস্যুর পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে গজ-ব্যান্ডেজ থাকার কোনো প্রমাণের পাশাপাশি যক্ষ্মা বা ক্যানসারেরও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় রোগীর অন্ত্রে ‘নন-স্পেসিফিক কোলাইটিস’ (Nonspecific colitis) নামে এক ধরনের প্রদাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রদাহের কারণে অন্ত্রের দেয়ালে ক্ষত ও ব্লকেজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ক্যানসার বা টিবির মতো গুরুতর কোনো রোগের প্রমাণ না পাওয়ায় বর্তমানে রোগী বিশেষ চিকিৎসার আওতায় রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
এ বিষয়ে ঝুমার বাবা বাচ্চু মিয়া কিংবা মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।