
জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ডের পাশাপাশি হাসপাতালের করিডোরেও রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জ্বর, হাম উপসর্গ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। প্রতিনিয়ত নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভর্তি তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুরে হাসপাতালে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের। তবে সীমিত জনবল ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশ জ্বর, হাম উপসর্গ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রচণ্ড গরম, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ এবং ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে অনেকেই ডায়রিয়া, আমাশয় ও বিভিন্ন ধরনের পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন। শিশুদের মধ্যেও জ্বর ও হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
একজন রোগীর সঙ্গে সাধারণত দুই থেকে তিনজন স্বজন থাকায় রোগীর তুলনায় হাসপাতালে মানুষের উপস্থিতি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পাশাপাশি হাসপাতালের করিডোরেও রোগী ও স্বজনদের ভিড় লেগেই আছে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবুল হাসনাত বলেন, ‘টানা দুই মাস ধরেই হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। দম ফেলারও ফুরসত মিলছে না। প্রতিনিয়ত নতুন রোগী আসছেন। তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি যাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছি। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের রোগ প্রতিরোধে জনসাধারণকে আরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার এবং শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।’
স্থানীয়রা জানান, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু মাধবপুর উপজেলার মানুষই নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসেন। উপজেলার দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এবং পশ্চিমে নাসিরনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষও এ হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নেন। ফলে স্বাভাবিক সময়েও এখানে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জ্বর বা সংক্রামক রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নির্ধারিত ৫০ শয্যার বিপরীতে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোগীর এই চাপ অব্যাহত থাকলে চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি হাসপাতালের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার ওপরও আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।