

লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়নের মনতৈল (শামপুর) গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান আশরাফ। তিনি লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মৃত মারাজ মিয়ার ছেলে।
ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং এটি তাঁর জন্য হয়রানিমূলক।
লিখিত বক্তব্যে আসাদুজ্জামান আশরাফ জানান, গত ২৭ আগস্ট সকাল পৌনে ৯টার দিকে মনতৈল (শামপুর) গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নাজমুল হাসান (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
আসাদুজ্জামান আশরাফের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ওই সময় তিনি বুল্লা বাজারের সুমন ও হাসানের শরবতের দোকানে অবস্থান করছিলেন। পরে মারামারির খবর পেয়ে বুল্লা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মনতৈল গ্রামে যান।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর লাখাই থানার তৎকালীন ওসি শরীফ আহমেদ, ওসি (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র, এসআই বিপুল, এসআই প্রণয়, এসআই ময়নাল, হাকিমসহ পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় মুরুব্বি মোতালেব খানসহ অনেকে তাঁকে সেখানে উপস্থিত দেখেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এ দাবি প্রমাণে বুল্লা বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ ও তাঁর মোবাইল ফোনের লোকেশন যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান আশরাফ। তাঁর দাবি, ঘটনার পরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদেও তাঁর নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
মামলায় তাঁকে আসামি করার কারণ সম্পর্কে আসাদুজ্জামান আশরাফ বলেন, মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিন তাঁর বোনজামাই এবং রায়হান তাঁর ভাগিনা। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, কোনো আত্মীয় অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। তবে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা একজন ব্যক্তিকে শুধুমাত্র আত্মীয়তার সূত্রে মামলায় জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। মারামারির খবর পেয়ে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ঘটনাস্থলে যাওয়াকে কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে লাখাই থানার তৎকালীন ওসি শরীফ আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর অবগত রয়েছে। তবে বাদীপক্ষ এজাহারে আসাদুজ্জামান আশরাফকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আসাদুজ্জামান আশরাফ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততা না থাকলে তাঁর নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।