
বাংলার খবর ডেস্ক
আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চায় সরকার। কোনো শিশু যেন ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করলে কিংবা কোনো ধরনের অনিয়ম করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। কর্মসূচির মান নিশ্চিত করতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকার মানুষকে নিজেদের স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। স্থানীয় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদেরও স্কুলের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ বাড়বে এবং স্কুলের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।
ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই এ কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় জনগণকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও উন্নয়ন আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
দিনাজপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো—কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ।
এই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। কর্মসূচির কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় দিনাজপুর জেলার ওই পাঁচ উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন।