
বাংলার খবর ডেস্ক
আজ ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা, গান এবং সাহিত্যকর্ম আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন তিনি। জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে দমাতে পারেনি; বরং সেই সংগ্রাম তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কবিতা, গান, গজল, হামদ, নাত, নাটক, শ্যামাসংগীতসহ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন নজরুল। মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। তাঁর কবিতা ও গান মানুষের মনে জাগিয়েছে নবচেতনা এবং শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবমুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তিশালী বার্তা তাঁর রচনায় বারবার উঠে এসেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি বাঙালির কাছে চিরকাল ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়। এরপর তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ওই বছরই ২৯ আগস্ট, বাংলা ১২ ভাদ্র, ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মৃত্যুর ৫০ বছর পরও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, প্রেম, বিদ্রোহ ও মুক্তির দর্শন বাঙালির জীবন ও চেতনায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে।