
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। তবে সঠিক তথ্য ও জনসচেতনতার অভাবে অনেক সাপে কাটা রোগী দ্রুত হাসপাতালে না এসে ওঝা-বৈদ্যের শরণাপন্ন হচ্ছেন বা অন্যত্র চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এবং গত কয়েক মাসে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথে ৩ থেকে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। এই মজুদ দিয়ে একসঙ্গে দুজন সাপে কাটা রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া নতুন করে অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং ওষুধ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারিভাবে একটি অ্যান্টিভেনমের নির্ধারিত বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা হলেও সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে সাপে কাটা রোগীরা এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার অ্যান্টিভেনম মজুদ থাকার বিষয়টি এখনো অনেকের অজানা। ফলে সাপে কাটার পর কেউ কেউ দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে ভুল ধারণার কারণে ওঝা-বৈদ্যের কাছে সময় নষ্ট করেন। আবার অনেকে রোগীকে চিকিৎসার জন্য দূরের কোনো হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটে এবং রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার ৩ থেকে ৪ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পথে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়া এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) ডা. কাজী শামছুল আরেফিন বলেন, গত এক বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। কিন্তু সাপে কাটার ঘটনা ঘটলেও অনেক রোগী ও তাদের স্বজন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে আসেন না। বরং তারা অন্যত্র চিকিৎসার জন্য চলে যান। এ কারণে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম নেই। অথচ বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাপে কাটার রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনমসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দিয়ে রোগীর জীবন রক্ষার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।
চিকিৎসক ও সচেতন মহল বলছে, সাপে কাটার পর ওঝা-বৈদ্যের কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে। বিশেষ করে লাখাই উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম পাওয়ার তথ্যটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে সাপে কাটার কারণে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।