
জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার হবিগঞ্জের মাধবপুরে ক্যান্সারের চিকিৎসার নামে এক নারীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং প্রতিশ্রুত ফল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সেবনের পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং বর্তমানে তাঁর পায়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী মোছা. শারমিন আক্তার মাধবপুর উপজেলার ৪ নম্বর আদাঐর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের দাবি, ফেসবুকে প্রচারিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে তারা ‘ডা. এস. এম. সারোয়ার’-এর সঙ্গে হবিগঞ্জে তাঁর চেম্বারে যোগাযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি চার মাসের চিকিৎসা কোর্সের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশ্বাস দেন। এ জন্য প্রথম মাসে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী মাসগুলোতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সেবন করেও শারমিনের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তাঁর পায়ে ফোলা ও ক্ষত দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতস্থান থেকে মাঝে মাঝে রক্তপাত হচ্ছে বলেও দাবি পরিবারের।
শারমিন আক্তার বলেন, চিকিৎসকের কাছে পুনরায় গিয়ে পায়ের অবস্থার উন্নতি না হওয়ার বিষয়টি জানানো হলে তাকে অন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পা কেটে ফেলার বিষয়ে বলা হয়।
শারমিনের শ্বশুর মো. জজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এখন পা কেটে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ‘ডা. এস. এম. সারোয়ার’-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।