
আফতাবুল ইসলাম মেহরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কে একদিকে চলছে ব্যাপক সংস্কার কাজ, অন্যদিকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে অব্যাহত রয়েছে ভারী ও বড় যানবাহন চলাচল। সংস্কার কাজের কারণে সড়ক এমনিতেই সংকুচিত ও খানাখন্দে ভরা। এর ওপর সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। এমন পরিস্থিতিতে সংকুচিত পথ দিয়েই নিয়ম না মেনে চলাচল করছে বড় বড় কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে এমনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন শতাধিক পথচারী ও যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাইপাস সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি দ্রুতগতির বড় কাভার্ড ভ্যান সংকুচিত সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সজোরে একটি হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়।
এ সময় বিকট শব্দে বিদ্যুতের তারে শর্ট সার্কিট হয়ে স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে থাকে এবং খুঁটিটি তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দ ও আকস্মিক ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়তেও দেখা যায় বলে জানান উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্পের জন্য পুরো এলাকা একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় একটি খুঁটি পড়ে গেলে সংযুক্ত অন্য খুঁটিগুলোও একসঙ্গে হেলে বা ভেঙে পড়তে পারত। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুতায়িত তার ছিঁড়ে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের পাশে বিপজ্জনকভাবে হেলে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি ও অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তাদের দাবি, সড়ক সংস্কার কাজ চলাকালীন চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও দশ চাকার ট্রাকসহ বড় ও ভারী যানবাহন চলাচল অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ অথবা বন্ধ রাখতে হবে।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত ও হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটিগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কিংবা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানান তারা। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এ সময়েই বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সোজা ও মেরামত করা হলে ভবিষ্যতে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন করে সড়ক খুঁড়তে হবে না।
পাশাপাশি সড়কের ওপর এবং একেবারে গা ঘেঁষে স্তূপ করে রাখা নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে পথচারী ও হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতি এবং নিরাপত্তার চরম অভাব নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বড় কোনো অঘটন ঘটার আগেই বিদ্যুৎ বিভাগ ও সড়ক বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।