
আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব
চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবির টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গ্রাহকরা। এ সময় স্থানীয় এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মানববন্ধন চলাকালে মাঠকর্মীর বাধা সৃষ্টি এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাঠকর্মী ও চরমুঘুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষকে মাসিক সঞ্চয় ও মেয়াদি বীমা পলিসি করান। কয়েকজন গ্রাহকের বীমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কয়েক বছর পার হলেও তারা এখনো দাবির টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লিপি আক্তার, শেফালি বেগম, বিউটি আক্তার ও হোসনেয়ারা বেগম বীমার বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করে বলেন, নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বীমা পলিসি করা হয়েছিল। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও তারা জমানো টাকা পাচ্ছেন না।
তাদের অভিযোগ, টাকা উত্তোলনের বিষয়ে সহযোগিতা না করে মাঠকর্মী সাইফুল ইসলাম তাদের হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে বাড়তি খরচ দাবি করার অভিযোগও করেন তারা।
মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সাইফুল ইসলামের বাড়ির সামনে অবস্থান নিলে তিনি কর্মসূচিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গ্রাহকদের স্বজন আনোয়ার হোসেন বলেন, সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে ছিলেন। গ্রাহকরা সুশৃঙ্খলভাবে তাদের দাবি তুলে ধরলেও কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত গ্রাহকদের প্রাপ্য বীমার টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাঠকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, উপস্থিত অনেকেই তার মাধ্যমে বীমা করেননি। এছাড়া অনেকের বীমার মেয়াদ এখনো পূর্ণ হয়নি। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে দাবি অনুযায়ী টাকা পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। মাঠকর্মী হিসেবে এ বিষয়ে তার করার মতো তেমন কিছু নেই বলেও জানান তিনি।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বেলায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত গ্রাহকদের শান্ত করে। পরে মাঠকর্মী সাইফুল ইসলামকে গ্রাহকদের বীমা দাবির টাকা পাওয়ার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উপস্থিত সবাইকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হয়।