

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব,চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীকে ঘিরে একাধিক বিয়ে, হানি ট্রাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক প্রবাসীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী মৃত প্রবাসী সাইফুল ইসলাম মাসুমের বাবা আবুল বাশার। তার অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানকালে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে তার ছেলেকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়। পরে মাসুমের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজের নামেও জমি লিখে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পরিবারটির অভিযোগ, মাসুম সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পরও নাছরুম আক্তার বিভিন্নভাবে তাদের কাছে অর্থ দাবি করতে থাকেন। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানায়ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আবুল বাশার।
বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুম আক্তারকে বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীর দাবি, পরে তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
বিয়ের কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তার দাবি, প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি এফিডেভিট দেখিয়ে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দাবি করা হয়। পরে কাগজটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এমন কোনো এফিডেভিট দেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষরযুক্ত একটি কাবিননামা উপস্থাপনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবারটি। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কাজি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ওই কাবিননামাটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদ নামে এক যুবককে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে বিয়ের পর তার কাছ থেকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগর নামের আরও কয়েকজনের সঙ্গেও বিয়ের নামে প্রতারণা এবং কাবিনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাছরুম আক্তার তার জীবনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।”
নিজেকে মৃত সাইফুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী দাবি করে নাছরুম আক্তার বলেন, “আমি মাসুমের স্ত্রী। মাসুমের বাড়িতেই তিন বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই। আমি ওই বাড়িতেই থাকব।”
এ ঘটনায় মৃত মাসুমের বাবা আবুল বাশার ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন। পাশাপাশি তারা হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, নাছরুম আক্তার তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সাইফুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন অভিযোগকারী পরিবার।