

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব:
চাঁদপুরের হাইমচর থানা ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, রডে মরিচা, ছাদে পানি জমে শেওলা ও গাছ জন্মানোসহ নানা সমস্যায় ঝুঁকির মধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, থানার বীম, কলাম, সিঁড়ি ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ড্যাম্প ও শেওলা জমেছে। কোথাও কোথাও কংক্রিট খসে গিয়ে ভেতরের মরিচাধরা রডও দৃশ্যমান হয়েছে। ছাদে পানি জমে ছোট গাছও জন্মেছে।
থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানান, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও তাদের উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়। তাদের ভাষ্য, ছাদ ও ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এএসআই হান্নান বলেন, দায়িত্ব শেষে থানা ভবনে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও তাদের মধ্যে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা কাজ করে। নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
এএসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। সামান্য ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে।
এসআই সমীর দাস জানান, অতীতে সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ফলে প্রচণ্ড গরমের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান ব্যবহার করা নিয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হয়।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, নদীভাঙনপ্রবণ হাইমচরে ১৯৯৮ সালের দিকে তাড়াহুড়ো করে থানা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৪০ জনের বেশি এই ভবনে অবস্থান করেন। ভবনের বর্তমান অবস্থায় তারাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
হাইমচর ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ভবনটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, থানা ভবনের ফাটলসহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাইমচরবাসীর পুলিশি সেবার মানও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো জানান, দুই তলা থানা ভবনটি ১৯৯৮ সালে বক্স টাইপ প্ল্যানে ব্রিক স্ট্রাকচারে নির্মাণ করা হয়। ভবনের দেয়াল, ছাদ, বীম ও কলামের বিভিন্ন অংশে ড্যাম্পনেস, শেওলা, মরিচা ও ফাটল দেখা দিয়েছে।
তার মতে, ভবনটি মেরামত করে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হবে না। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ভবনটি মেরামত করা হবে নাকি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যদের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নতুন থানা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও নিরাপদ ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।