
লাখাই প্রতিনিধি।। লাখাই উপজেলার হাওরাঞ্চল বেষ্টিত লাখাই বাজারে সার আছে, সার নেই– এমন গোলকধাঁধায় কৃষককুল। সরকার বলছে, ডিলারের গুদাম সারে ভরা। বিপরীতে ডিলাররা প্রচার করছেন, তাদের গুদামে সারের খরা। অনুসন্ধানে নেমে দেখেছে, গুদামে মজুত রেখে ডিলাররা বলছেন, ‘সার নেই।’ তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলে তাদের কাছেই মিলছে যত খুশি তত। ডিলার, অসাধু কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের পুরোনো মোড়লরা এখনও ঘোরাচ্ছেন ছড়ি। কিছু আওয়ামী লীগ নেতা কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার খেলায় মেতেছেন। বেশি দামে কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বিস্তর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানে সরকার বদল হলেও এখনও সারের বাজারের নাটাই আওয়ামী লীগের দোসর লাখাই বাজারের ডিলার সুনিল দেবনাথ ও প্রদীব রায় এর হাতে। তাদের অধিকাংশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এসব চক্রের লাগাম টানা না গেলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।কিনতে হচ্ছে চড়া দামে বোর মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠে ধান ভুট্টা, সহ বিভিন্ন ফসল রোপণ করছেন কৃষক। তবে চাহিদা বাড়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে সার সংকট। এতে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় এ উপকরণ। যদিও সরকার সারে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এ জন্য দামও নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। তবে সারাদেশেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা সরাসরি সার না পেলেও ডিলাররা বেশি দামে মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে তা বিক্রি করছেন।
বিসিআইসি ডিলারগন খুচড়া বিক্রেতাদের সবাইকে সার দিচ্ছে না কিছু সার তারা কালোবাজারে কৃষকের কাছে বিক্রয় করছেন বলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ আছে। বিসিআইসি ডিলারদের অভিমত তাদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা সারাবছর সার নেয় না যখন চাহিদা হয় তখন নিতে চায় ।
এ প্রশ্নে খুচরা বিক্রেতারা ও বলেন বিসিআইসির ডিলাররাও সারা বছর সার উত্তোলন করেনা বরং ফ্যক্টরী ও শায়েস্তাগঞ্জ গেটেই সার বিক্রি করে চলে আসে কর্তৃপক্ষও এ বিষয়টি দেখে না। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রয় করলেও ডিলাররা বা খুচরা বিক্রেতা কেউই কৃষকদের বিক্রয় রশিদ দেয় না ।
লাখাই উপজেলার স্বজনগ্রাম, রুহিতনসী,শিবপুর কামালপুর কৃষ্ণপুর এলাকার কৃষকরা ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার জমিতে ব্যবহার করছে। তবে সারের বাড়তি দরের কারণে বিপাকে পড়েন কৃষকরা । লাখাই উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দরে লাখাই বাজার বুল্লাবাজার , বামৈ মোড়াকরি ঘুরে দেখা যায় মূল্য তালিকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়ার দাম ১৩৫০টাকা হলেও বিক্রয় হচ্ছে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত,ডিএপি সার ১০৫০ টাকার স্থলে ১২৫০ টিএসপি ১৩৫০ টাকার স্থলে ১৫০০ টাকা এবং এমওপি ১০০০ টাকা না নিয়ে বিক্রয় করছে ১১৫০ টাকা পর্যন্ত।