

চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বুধবারের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বেগে বাতাসের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। এতে ওই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়।
পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে শনিবার ভোর ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই সরবরাহ স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিও আংশিকভাবে মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে।
স্বাভাবিক সময়ে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। দুই টার্মিনাল মিলিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়ায় দৈনিক প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে উভয় এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এর ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন খাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।