
নাজমুল ইসলাম হৃদয়, কলামিস্ট ও সাংবাদিক, বাংলার খবর
সাংবাদিকতা কেবল কোনো পেশা নয়; এটি সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং মানুষের অধিকার ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি পবিত্র দায়িত্ব। একজন আদর্শ সাংবাদিকের কাছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব বা ক্ষমতাবানদের প্রভাবের চেয়ে সংবাদে সত্যতা ও জনস্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ‘সৎ সাংবাদিকের কোনো বন্ধু থাকতে নেই’—এই বহুল প্রচলিত প্রবাদের অর্থ এই নয় যে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত বন্ধু থাকতে পারবে না, বরং এর মূল কথা হলো—সংবাদ প্রকাশের সময় কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেন সত্য ও ন্যায়কে প্রভাবিত করতে না পারে।
বাস্তবতার ময়দানে ভালো কাজের সংবাদ প্রকাশ করলে প্রশংসার জোয়ার বইলেও, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার তুলে ধরলেই বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রশংসার জায়গা নেয় সমালোচনা আর বন্ধুত্বের দূরত্ব। এখানেই প্রকৃত সাংবাদিকতার পরীক্ষা। ব্যক্তিগত পরিচিতি বা ক্ষমতা দেখে সত্য গোপন করা মানে জনগণের জানার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা। তবে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অর্থ এই নয় যে ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করা হবে; বরং তথ্য যাচাই, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিয়েই ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করতে হয়।
সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ নয়। সত্য প্রকাশের কারণে পরিচিতজন দূরে সরে যেতে পারে, শত্রুর তালিকা দীর্ঘ হতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক চাপ বা হুমকিও আসতে পারে। তবে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক মিথ্যা বা গুজবের আশ্রয় না নিয়ে যদি পেশাগত নীতি ও সত্যের প্রশ্নে আপসহীন থাকেন, তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে পাঠকের আস্থা। দিনশেষে একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় বন্ধু বা ক্ষমতাবানদের সান্নিধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না, বরং নির্ধারিত হয় তাঁর সত্যনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা এবং সাহসিকতা দিয়ে।