
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ৪৪ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন সুখী আক্তার (২০) নামে এক তরুণী। বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রায়হানের বাড়িতে অবস্থান করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সুখী আক্তারের বাড়ি উপজেলার পূর্ব সিংহ গ্রামে। অভিযুক্ত প্রেমিক রায়হান মিয়া (২৫) মুড়িয়াউক গ্রামের পূর্ব পাড়ার হারুন মিয়ার ছেলে।
অনশনরত সুখী আক্তার জানান, রায়হানের প্রলোভনে পড়ে তিনি নিজের আগের সংসার ছেড়ে চলে আসেন। গত দুই বছর ধরে রায়হানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় আড়াই মাস আগে রায়হান তাকে ঢাকার একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে তারা এক সপ্তাহের বেশি সময় একসঙ্গে অবস্থান করেন এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এরপর থেকেই রায়হান তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
সুখী আক্তার আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রায়হান সেখানে উপস্থিত হননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর আলম জানান, তরুণীর অনশনের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। গত ১৪ আগস্ট এ বিষয়ে একটি বিচার-সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও ছেলে পক্ষ মেয়ের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে তিনি জানান।
বুধবার বিকেল ৪টা থেকে শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৪৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনশন অব্যাহত রেখেছেন সুখী আক্তার। তিনি বলেন, “রায়হানের আশ্বাসের কারণেই আমার আগের সংসার ভেঙেছে। সে যদি আমাকে বিয়ে করে ঘরে না তোলে, তবে আমি এই ছেলের বাড়িতেই মরব।”
ঘটনার পর থেকে রায়হানের ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং তিনি বাড়িতে নেই বলে জানা গেছে। সুখী আক্তারের অভিযোগ, ছেলে পক্ষ তাকে ঘরের ভেতর দরজা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
তবে তরুণীর এসব অভিযোগের বিষয়ে রায়হান বা তার পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুড়িয়াউক গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।