
জালাল উদ্দিন লস্কর, বাংলার খবর
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা-বাগানসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য চোরাচালানের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগে সঞ্জয় পান্ডে (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় তার একক প্রভাব থাকায় অনেকেই তাকে তেলিয়াপাড়া সীমান্তের ‘অঘোষিত রাজা’ বলে অভিহিত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময়ে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের মালামাল বহনের কাজ করলেও বর্তমানে দুই পারের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে রাতের আঁধারে মাদকসহ অবৈধ পণ্য প্রবেশের মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন সঞ্জয় পান্ডে। তার নিজস্ব একটি চোরাচালান বাহিনীও রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বিশ লাইনের বাসিন্দা সঞ্জয় পান্ডের বাবা রাজারাম পান্ডে চা-বাগানে দৈনিক ১৭৯ টাকা মজুরিতে শ্রমিকের কাজ করেন। অথচ সঞ্জয় পান্ডের বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল পাকা বাড়ি নির্মাণ এবং প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় টাইলস দিয়ে নির্মিত ওই বাড়িটির প্রধান ফটকে হিন্দি ভাষায় লেখা থাকায় এটিকে ভারতের কোনো বাড়ি বলে মনে হয়।
তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাধবপুর ও চুনারুঘাট থানায় দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত ৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় একটি এবং অপরটি ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট থানায় দায়ের করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া এলাকায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনার নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকায় ইচ্ছেমতো অভিযান চালানো যায় না। তবে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করছে। অভিযুক্ত সঞ্জয় পান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।