

নীলফামারীর ডোমারে দীর্ঘ ও অনিয়মিত লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির আশঙ্কায় বিদ্যুৎ অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডোমার জোনাল অফিস।
ডোমার জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া আবেদনে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং রাতের বেলায় নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, ডোমার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক এ.কে.এম. আলাউদ্দিনের স্বাক্ষরে গত রোববার থানায় আবেদনটি দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দীর্ঘ ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্র, অভিযোগ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে।
ডোমার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আওতাধীন ডোমার জোনাল অফিস, উপকেন্দ্র-১ (আন্ধারুর মোড়) এবং চিলাহাটি অভিযোগ কেন্দ্রে রাতের বেলায় পুলিশ টহল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য থানার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে এর প্রভাব বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার স্থাপনা এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর পড়তে পারে। এ কারণে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত টহলও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে না যায়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।