
পারভেজ হাসান লাখাই প্রতিনিধিঃ লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামে বিয়ের দাবিতে সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী এক প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থেকে আগত পপি রাণী বনিক (২৮) নামে এক ডিভোর্সী নারী। মোড়াকরি গ্রামের রবিন্দ্র বনিকের ছেলে সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী প্রেমিক রাজিব বনিকের বিয়ের আশ্বাস পেয়ে তার স্বামীকে তালাক দেন ওই নারী। পরে ওই নারীর সঙ্গে তার কথিত প্রেমিক সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তাই বিয়ের দাবিতে গত বুধবার (৫মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ওই প্রেমিকের বাড়িতে প্রবেশ করে এ নারী, পরবর্তীতে ওই নারীকে তাড়িয়ে দেয় ওই প্রেমিকের পরিবারের লোকজন, একপর্যায়ে ঐদিন থেকে শুরু করে গতকাল শুক্রবার বেলা ৫ ঘটিকায় রিপোর্ট লিখা আগপর্যন্ত টানা ৩দিন অনশন করে যাচ্ছিল তিনি।দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম যার প্রমাণ পপি রানী।কাউকে যদি বেশি মায়া কর, তবে সেই তোমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিবে।
জানা গেছে, পপি রানী নামক নারী প্রেমিকা আসছে টের পেয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্নগোপনে চলে যান ওই প্রেমিক, আবার কেউ কেউ বলছে ওই প্রেমিক দেশ ছেড়ে কর্মস্থল সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছেন অনেক আগে। অন্যদিকে ওই ডিভোর্সী নারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমিক রাজিব বনিক তাকে বিয়ে না করলে -আত্মহত্যা করবে বলে এমন হুশিয়ারী দিয়েছেন ওই নারী।ভালবাসা যা দেয়, তার চেয়ে বেশি কেড়ে নেয়!
অনশনরত পপি রাণী বনিক নামক ডিভোর্সী নারী ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেককে জানান, দীর্ঘ ৮বছর পূর্বে রং নাম্বারে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল রাজিব বনিকের সাথে, এক মাস পর বিয়ে করে সাউথ আফ্রিকায় নিয়ে যাবে বলে এমন আশ্বাস দিয়ে আসছিল প্রেমিক রাজিব বনিক। পরে আমি তাকে বলছি আমি বিবাহীত আমার স্বামী আছে, তবুও থেমে ছিলনা আমাদের প্রেমের সম্পর্ক। পরে আমাকে সে বিয়ে করে আফ্রিকা নিয়ে যাবে এমন বিশ্বাসে আমার স্বামীকে আমি ডিভোর্স দেই। এদিকে দীর্ঘ ৮বছর চলে যায়, তবুও করেনি বিয়ে, মাস ছয় এক পূর্বে রাজিব বনিক বাড়িতে এসে ছিলেন, এসে আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন দেখা করেন, পরে হটাৎ সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আমার সাথে। পরবর্তীতে বুধবার (৫মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রেমিক রাজিবের বাড়ীতে তার ঘরে প্রবেশ করি আমি, এসময় তার ভাই বিবেক বনিক আমাকে চোর অপবাদ দিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে ও কোনো সুরহা হইনি। রাজিব বনিক আমার জীবন নষ্ট করেছে, আমি ওর সংসার করতে চাই, ও আমাকে বিয়ে না করলে এ এলাকা থেকে আমার লাশ যাবে বলে হুশিয়ারি দেন ওই নারী। এদিকে অভিযুক্ত প্রেমিক রাজীব বনিকের সন্ধান না পাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।পরে এব্যাপারে তার ছোট ভাই বিবেক বনিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই নারীকে আমরা ছিনিনা, পরে কথা হবে বলে বিষয় গুলো এড়িয়ে যান তিনি।মোড়াকরি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোল্লা ফয়সাল জানান, বাবার অবাধ্যে মেয়েটি শ্রীমঙ্গল তার বোনোর বাসায় থেকে পালিয়ে এসেছে, এবিষয়ে মেয়ের পরিবার লোকজর ৬মাস আগে আসছিল, আর কি বলব - যে ছেলের খোঁজে মেয়ে এসেছে ছেলেই তো নিখোঁজ, খোঁজ নাই।
এব্যাপারে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ বন্দে আলী বলেন, আমরা এবিষয়ে অবগত আছি, মেয়েকে ছেলের পরিবার মেনে নিচ্ছে না, মেয়ে ছেলের বাড়িতে অনশন করে যাচ্ছে।
বিখ্যাত রেদোয়ান মাসুদের উক্তিটি মনে হয়ে গেল -তুমি তার জন্য কাঁদো, কারণ তুমি তাকে এখনও ভালোবাস, তোমার কান্না দেখে সে হাসে, কারণ সে কখনোই তোমাকে ভালোবাসেনি, শুধু সময়ের প্রয়োজনে কাছে এসেছিল, আবার সময়ের পরিবর্তনে চলে গেছে, মাঝখানে যা কিছু হয়েছিল সব আবেগ, আর শেষে যা হয়েছে সব প্রতারণা।