

পারভেজ হাসান, লাখাই (হবিগঞ্জ):
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ কারিমুলের রেখে যাওয়া দেড় বছরের শিশুকন্যা সুমাইয়াকে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় লাখাই উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে। বাবার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠা ছোট্ট শিশুটির উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানকক্ষকে ভারী করে তোলে।
শহীদ কারিমুল জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত হয়ে দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শাহাদাতবরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় স্ত্রী ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারায় তার সন্তান।
জুলাই যুদ্ধে এক চোখ অন্ধ ও অন্য চোখে ঝাপসা দেখা আহত যোদ্ধা ইমরান বক্তব্য দিতে গিয়ে শহীদ কারিমুলের পরিবারের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সুমাইয়া যখন বড় হয়ে বাবাকে খুঁজবে, তখন জাতি তাকে কী জবাব দেবে—এ প্রশ্ন সবার বিবেককে নাড়া দেয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় লাখাই উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৬’ শীর্ষক স্মরণসভায় এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শহীদ কারিমুলের শিশুকন্যা সুমাইয়াকে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার মা। শিশুটির দিকে তাকিয়ে উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে মুরিয়াউকের ১৭ বছর বয়সী আহত শিক্ষার্থী নাহিদের পক্ষ থেকে তার চাচা বদর উদ্দিন বক্তব্য দেন। তিনি তার ভাতিজার ওপর হওয়া অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পজিব কে এম শাহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাখাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ড. আক্তার আহাদ চৌধুরী স্বপন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম বলেন, “জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়; রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই জুলাই এ দেশের সর্বস্তরের আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার।”
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের বীর যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের যেকোনো প্রয়োজনে লাখাই থানার দরজা সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।
এ সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল আজম, বিএনপির সহ-সভাপতি তাজুল মোল্লা, লাখাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, লাখাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি বাহার উদ্দিন এবং সাংবাদিক এম এ ওয়াহেদ বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে যেন দেশে পুনরায় কোনো ধরনের স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী পরিবেশ সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুহিবুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু কেশব চন্দ্র। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি ফাইজুল করিম।