
লাখাই প্রতিনিধি :
গত ৫ আগস্ট “লাখাইয়ে জিরুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ, পাঠদান ব্যাহত” শিরোনামে দৈনিক প্রভাকর, দৈনিক হবিগঞ্জের বাণীসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে আমাকে জড়িয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমি দাবি করছি। এ কারণে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিম্নোক্ত স্পষ্টীকরণ প্রদান করছি।
প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকি না কিংবা বিদ্যালয়ে এসে স্বাক্ষর করে চলে যাই। এ তথ্য সঠিক নয়। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছি। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝে মধ্যে এক-দুই দিন বিদ্যালয়ে আসতে সাময়িক বিলম্ব হলেও এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। গত ৪ আগস্টের উপস্থিতির স্বাক্ষর যথাসময়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্ধারিত গ্রুপে পাঠানো হয়েছিল, যার প্রমাণ রয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে একজন সাংবাদিক আমাকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে ফোন করলে আমি নাকি ‘পাশের বাড়িতে আছি’ বলে জানিয়েছি। এ তথ্যও সঠিক নয় বলে আমি দাবি করছি।
প্রকৃত ঘটনা হলো, ওই সময় বিদ্যালয়ে টিফিনের বিরতি চলছিল। বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কাজের প্রয়োজনে বিদ্যালয় থেকে মাত্র ২-৩ মিনিটের দূরত্বে ‘আশিকের কম্পিউটারের দোকানে’ অবস্থানকালে সাংবাদিক আমাকে ফোন করেন। আমি তাকে জানাই, “আমি ২/৩ মিনিটের দূরত্বের একটি দোকানে অফিসের কাজে আছি, আপনি বসেন, আমি আসছি।” এরপর ২-৩ মিনিটের মধ্যেই আমি বিদ্যালয়ে ফিরে আসি এবং তাকে আপ্যায়ন করি। কিন্তু ওই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আমার দাবি।
সংবাদে সহকর্মী শিক্ষিকা জয়শ্রী দেবনাথের বরাতে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিক শুধু আমার উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, “ম্যাডাম স্কুলে এসেছেন।” এর বাইরে আমার বা বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে তিনি কোনো নেতিবাচক বক্তব্য দেননি। তাঁর বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রতিবেদকের সঙ্গে অশালীন বা অসৌজন্যমূলক আচরণের যে অভিযোগ সংবাদে করা হয়েছে, সেটিও সত্য নয়। একইভাবে শোকজের জবাব দিতে বিলম্বের বিষয়ে বলা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমি শোকজের জবাব দাখিল করব।
বিদ্যালয়ের এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার বিষয়েও প্রকৃত তথ্য আড়াল করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে আমার দাবি। গত নভেম্বর মাসেও আমি ব্যক্তিগতভাবে ৮ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি। অথচ সাধারণত বিদ্যালয়ে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫০০ টাকার বেশি আসে না।
বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের সময় ঠিকাদার বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় অতিরিক্ত বিলের সৃষ্টি হয়। ওই অতিরিক্ত বিল ঠিকাদারের পরিশোধ করার কথা ছিল। বিল জমতে জমতে ১৩ হাজার টাকা হলে ঠিকাদার ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর পরিশোধ করেননি। বিষয়টি আমি অনেক আগেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।
সম্প্রতি স্কুল ছুটির পর বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ ঘটনায় আমার কোনো অবহেলা বা ব্যক্তিগত অনিয়ম নেই বলে আমি দাবি করছি।
আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে সর্বদা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনার চেষ্টা করে আসছি। বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি এবং আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে বলে আমার অভিযোগ।
প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমার এই বক্তব্যকে স্পষ্টীকরণ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।
আমি প্রকাশিত মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে সত্যতা যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারী:
শারমিন আক্তার
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা
জিরুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
লাখাই, হবিগঞ্জ