

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সরজমিন তদন্ত শেষ হলো তীব্র অসন্তোষের মধ্য দিয়ে। তদন্ত কমিটি কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অভিযোগকারী নির্ধারিত কয়েকজনের বাইরে আর কারো কোনো কথা না শুনেই তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (৩ আগস্ট) সরজমিন তদন্তে আসেন দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান হিসেবে ছিলেন হবিগঞ্জ মাতৃমঙ্গলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. আকলিমা এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন লাখাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র রায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিপূর্বে লিখিত অভিযোগকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি আসার পর শুধু সেই হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েই কাজ শেষ করতে চান। এসময় ওই স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির সদস্য, জমিদাতা এবং এলাকা থেকে আসা শত শত ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানাতে চাইলে তদন্ত কমিটি তাদের কোনো কথা শুনতেই রাজি হয়নি।
একপর্যায়ে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তদন্ত কমিটির গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাদের বক্তব্য শোনার আকুতি জানান। তবে কমিটি কোনো কর্ণপাত না করে স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে। তদন্ত টিমের প্রধান ডা. আকলিমা এবং সদস্য গৌতম চন্দ্র রায়কে এ প্রতিনিধি প্রশ্ন করেন—"কেন ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হচ্ছে না?"—তবে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে এলাকা ত্যাগ করেন তারা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তদন্তের নামে নাটকীয়তা করা হয়েছে। পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের সাথে কিছু সময় কথা বলেই তদন্ত শেষ বলে সটে পড়েন কর্তাব্যক্তিরা। ঘুষখোর ও দুর্নীতিগ্রস্ত একজন পরিদর্শিকাকে রক্ষায় এভাবে এড়িয়ে যাওয়া দুঃখজনক।"
কমিটির এমন রহস্যজনক আচরণে সংক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা এবং ভুক্তভোগীরা একত্র হয়ে অভিযুক্ত পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের দ্রুত অপসারণ ও বদলির দাবিতে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এলাকা জুড়ে বর্তমানে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।