

দেশে অপসাংবাদিকতা রোধে সাংবাদিকতার পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
রোববার (২ আগস্ট) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল কনভেনশন হলে আয়োজিত ‘মৌলিক সাংবাদিকতা ও নৈতিক প্রতিবেদন’ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে গাজীপুরে কর্মরত প্রায় ৮০ জন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে সত্য ও মিথ্যা যাচাই করে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে অপসাংবাদিকতা রোধে সাংবাদিকতার যোগ্যতার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই, শিশু সুরক্ষা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহবিষয়ক আইন এবং গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। দ্বিতীয় পর্বের মুক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ পর্ব পরিচালনা করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দেবাশীষ রঞ্জন সরকার সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার অন্যতম মূল দায়িত্ব। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় এবং জনগণের অধিকার ও সমাজের স্বচ্ছতা রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জনগণের আস্থা ধরে রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শিশু ও নারীর অধিকার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্য যাচাই, সংবেদনশীলতা এবং ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কর্মশালায় শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের আরও কার্যকর ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এদিকে অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ‘ভালো কাজের ভালো মানুষ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলার তিনটি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ভালো কাজের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।