

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলতি বর্ষা মৌসুমে হাওরে পর্যাপ্ত পানি না হওয়ায় কচুরিপানা, আগাছা ও লতাপাতার জট তৈরি হয়েছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বুল্লার হাওর, সিংহগ্রাম, তেঘরিয়া, ভাদিকারা, করাব, বলাকান্দি, ভবানীপুর ও গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার হাওরে পানির গভীরতা কম থাকায় কচুরিপানা ও লতাপাতা জমিতে আটকে আছে। অনেক স্থানে আবাদি জমি ঘন আগাছায় ঢেকে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছর বর্ষায় হাওরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে কচুরিপানা ও আগাছা পানির স্রোতে ভেসে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু এবার পানির পরিমাণ কম থাকায় এবং নদী-খালে স্বাভাবিক স্রোত না থাকায় কচুরিপানা ও লতাপাতা হাওরের বিভিন্ন অংশে স্থায়ীভাবে আটকে গেছে।
কৃষকেরা বলছেন, জমিতে জমে থাকা ভারী কচুরিপানা ও লতাপাতা অপসারণ না করে বোরো চাষ শুরু করা সম্ভব নয়। বিপুল পরিমাণ আগাছা পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে হবে। এতে চাষের শুরুতেই কৃষকদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হবে।
তেঘরিয়া ও বুল্লা এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, বীজ, সার, ডিজেল ও সেচের খরচ এমনিতেই বেড়েছে। এর সঙ্গে জমি পরিষ্কারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বোরো আবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারি যান্ত্রিক সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা তাদের পক্ষে কঠিন বলেও জানান তারা।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত হাওরের কচুরিপানা ও আগাছা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো কচুরিপানা ও আগাছা অপসারণ করা না হলে লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি বোরো মৌসুমে অনাবাদি থেকে যেতে পারে। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন।