
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওন্দী চা কোম্পানির বিরুদ্ধে কম দামে কাঁচা চা পাতা বিক্রি করে সরকারকে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আর্থিক সংকটের অজুহাতে কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে কাঁচা চা পাতা বিক্রি করছে, যা কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দেওন্দী চা কোম্পানি শ্রীমঙ্গলের ‘এম আর খান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ২৩ টাকা দরে বিক্রি করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে। নগদ অর্থের প্রয়োজনেই তারা এভাবে কাঁচা চা পাতা বিক্রি করছেন। তবে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা বিশেষজ্ঞ জানান, সাধারণ হিসাবে ১০০ কেজি কাঁচা চা পাতা থেকে প্রায় ২৩ কেজি প্রক্রিয়াজাত চা উৎপাদন সম্ভব। সেই চা প্রতি কেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হলে মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। অথচ একই পরিমাণ কাঁচা পাতা ২৩ টাকা দরে বিক্রি করলে মোট মূল্য হয় মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা। এতে প্রতি ১০০ কেজি পাতায় প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ টাকার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলেও ব্যবস্থাপনার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবনযাত্রায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। তারা আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা না পেলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিবার বিদেশে উন্নত জীবনযাপন করছে।
এ বিষয়ে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, মালিকপক্ষ ও কোম্পানির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানির সংকট কাটানো সম্ভব নয়। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।