

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখাল-দিঘলবাগ-যাত্রাবড়বাড়ী সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রতিদিন হাজারো স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ হলেও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অধিকাংশ অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে অনেকেই হাত-পা ভাঙাসহ গুরুতর আহত হচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীরা। এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে মা ও গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে সময়ের আগেই প্রসব, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মা ও নবজাতকের জীবনহানির আশঙ্কাও বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে মাটি কাটার মৌসুমে ভারী যানবাহন দিন-রাত চলাচল করায় সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সড়কটি এতটাই সরু যে দুটি যানবাহন একসঙ্গে অতিক্রম করতে গেলেই যানজটের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সংস্কার নয়, ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি প্রশস্ত করাও জরুরি। তাদের মতে, আধুনিক ও টেকসইভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয়রা জানান, বিগত কয়েক বছরেও সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই তারা হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউসের হস্তক্ষেপে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইরাজ উদ্দিন দেওয়ান বলেন, “সড়কটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
দীর্ঘদিনের অবহেলায় জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হওয়া ধুলিয়াখাল-দিঘলবাগ-যাত্রাবড়বাড়ী সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।