

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শ্রেণীকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান চলছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
**মাধবপুরে ধর্মঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ: ছাদের পলেস্তারা খসে দুর্ঘটনার শঙ্কা**
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৩১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন আটজন শিক্ষক। তবে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের ছাউনিযুক্ত ভবনের কয়েকটি শ্রেণীকক্ষের দরজা-জানালা ভাঙা এবং চালের টিনে বড় বড় ছিদ্র রয়েছে। বৃষ্টি হলে টিনের ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেক শিক্ষার্থীকে ছাতা মাথায় দিয়ে শ্রেণীকক্ষে অবস্থান করতে হয়। এতে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের অপর ভবনের কয়েকটি শ্রেণীকক্ষের ছাদের পলেস্তারা বিভিন্ন সময়ে খসে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে পাঠদান চলাকালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুল হাসান বলেন, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”