

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে একজন সহকারী শিক্ষককে বিধিবহির্ভূতভাবে একটি বিদ্যালয়ে মৌখিকভাবে বদলির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘর ইউনিয়নের আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি আব্দুর রব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি অনলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং কোনো লিখিত বদলির আদেশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে ওই শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় শিক্ষক বণ্টনের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গোপন সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সুবিধাজনক স্থানে বদলির আশ্বাস দিয়ে একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টির একটি ন্যায়সংগত সমাধান হোক।”
আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, “এই শিক্ষক কীভাবে এখানে কর্মরত, তা আমি নিজেও নিশ্চিত নই। শুনেছি মৌখিক নির্দেশে তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আমাকে অনলাইন বদলির যোগদানের কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষক ব্যক্তিগত কারণে এমন বক্তব্য দিতে পারেন। অনলাইনজনিত জটিলতা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।