

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের নারী-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল হকের বোন রেজিয়া খাতুনের বিয়ে হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়। পরে তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার দেওয়া জায়গায় খোজারগাঁও গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি রেজিয়া খাতুনের মেয়ে সুহেনা আক্তার, যিনি এক সন্তানের জননী, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিয়া খাতুন, তার ভাই আব্দুল হক ও আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাদের নিজ গোষ্ঠীর লোকজনের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে আব্দুল হক ও তার ভাগ্নে মোস্তাকিমের সঙ্গে আব্দুল্লাহ এবং তার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়রা তখন পরিস্থিতি শান্ত করলেও মাগরিবের নামাজের সময় দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আব্দুল্লাহ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও একই পরিবারের আরেকটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ মে আব্দুল হকের ভাতিজা বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী তামান্না আক্তার চাচাতো দেবর মালেক মিয়ার ছেলে ফয়ছলের সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবর্তে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাদের দাবি, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।