

লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
‘দৈনিক ভোরের ডাক’ অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাখাইয়ে খাল পুনঃখনন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ইজিপিপিতে লুকোচুরি’ শীর্ষক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোমান মিয়া।
এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত সংবাদে বাস্তব অবস্থার অপব্যাখ্যা করে এবং তথ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবাদে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাকিবের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় সাতাউক খালের কাজ সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে তেঘরিয়া খালের কাজ প্রায় ৮১ থেকে ৮২ শতাংশ শেষ হয়েছে। খালে পানি চলে আসায় অবশিষ্ট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকদের উপস্থিতি কোনো কোনো দিন কমবেশি হতে পারে। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যে শ্রমিক কাজ করবেন না তিনি মজুরি পাবেন না। হাজিরার ভিত্তিতেই সব অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং কাজ না করে বিল উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।
কর্মদিবস নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়ে চেয়ারম্যান নোমান মিয়া বলেন, সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি আনুমানিক হিসাব দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, সঠিক হিসাব প্রকল্প অফিস থেকে পাওয়া যাবে। অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী সাতাউক খালে ৩৬ দিন কাজ হয়েছে। আনুমানিক ও অফিসিয়াল হিসাবের সামান্য পার্থক্যকে বড় ধরনের গরমিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, সাতাউক খালের মূল মাটি কাটার কাজ এক্সেভেটর দিয়ে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে। অন্যদিকে তেঘরিয়া খালের কাজও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে এবং বৃষ্টির কারণে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে।
নোমান মিয়া দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগেই একটি মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ব্যয় করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা লুকোচুরির সুযোগ নেই।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।