

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শালটিলা বন বিটে ১৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫ হাজার গাছের নতুন চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সিলেট বিভাগের পূর্ণ বনায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার আংশিক পাহাড়ি বনাঞ্চল নিয়ে গঠিত রঘুনন্দন বন রেঞ্জের আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর বনভূমি রয়েছে। এ রেঞ্জের অধীনে শালটিলা, শাহজীবাজার, শাহপুর ও জগদীশপুর—এই চারটি বন বিট পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার সকাল থেকে শালটিলা বন বিটে বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন নতুন চারা রোপণ করা হচ্ছে।
রঘুনন্দন বন রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মোজাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া জানান, এ বনাঞ্চলে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, জারুল, আকাশমণি, বাঁশ, বেত, আম, কাঁঠাল, আমলকী, হরিতকীসহ নানা প্রজাতির কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছ রয়েছে। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বনাঞ্চলে বানর, উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, শিয়াল, নেউল, মেছোবাঘ, মেছো বিড়াল, মায়া হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। এছাড়া বনমোরগ, কাঠঠোকরা, ময়না, টিয়া, শালিক, শ্যামা ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরও নিরাপদ আবাসস্থল এটি। নতুন করে ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগানো হলে বন্যপ্রাণীর খাদ্যসংকট অনেকটাই কমবে।
শালটিলা বন বিট কর্মকর্তা মো. মোহাইমিনুল ইসলাম সানি বলেন, রঘুনন্দন বন রেঞ্জের চারটি বিটে মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন প্রহরী দিয়ে বন রক্ষার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়েই মূল্যবান গাছ, বন্যপ্রাণী ও বনভূমি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন তারা। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই।
জগদীশপুর বন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বিট অফিসে নার্সারিতে কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো বনাঞ্চলে রোপণ করা হয়। এতে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীর বিচরণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শালটিলা ও জগদীশপুর বন বিটে নতুন অফিস ভবন নির্মাণ হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে শাহজীবাজার বন বিট এলাকায় শুধু সাইনবোর্ড থাকলেও পাহাড়ের ওপর কোনো স্থায়ী অফিস বা আবাসন নেই। ফলে শাহপুর বন বিটের কর্মীদের খোলা আকাশের নিচে থেকে বন পাহারার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলমান বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে রঘুনন্দন বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।