

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যয় নির্বাহে নির্ধারিত হারে ফি আদায়ের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা পরিচালনার খরচ মেটাতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। গার্ল গাইডসের ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের যে স্লিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই নির্ধারিত সীমার মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি জানান, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা করে পরীক্ষা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণশিক্ষা সচিব আরও বলেন, বর্তমানে স্লিপের বরাদ্দ সীমিত হলেও ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে বিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক বেশি অর্থ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরীক্ষা ফি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর চেয়ে বেশি হারে পরীক্ষা ফি নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দিয়ে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) ছাইফুল ইসলাম, হলদে পাখি কমিশনার বেলা রাণী সরকার, ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদ, আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা, ইয়াসমিন আক্তার বানু ও রওশন আরা খান।