

লাখাই উপজেলা প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সেবার বিপরীতে টাকা আদায়, বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ওষুধ বিক্রি এবং রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ অনুযায়ী, করাব ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসা গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য রোগীদের বিভিন্ন সেবার জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে। প্রসব-পূর্ব পরীক্ষা (এএনসি), দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, ডেলিভারি-পরবর্তী সেলাইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন।
এক ভুক্তভোগী প্রসূতির মা জানান, তার মেয়ের সন্তান প্রসবের পর তাদের কাছে অর্থ দাবি করা হয় এবং পরে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে সেবা নেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পাননি।
আরেক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন নিতে গেলে প্রথমে ওষুধ না থাকার কথা জানানো হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে অন্য একজনকে একই সেবা দিতে দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটিতে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সেবা গ্রহণের সময় অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় ডেলিভারি রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছিল, যা পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, সরকার থেকে বর্তমানে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ না হওয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগে কিছু সামগ্রী সংগ্রহ করে রোগীদের কাছে সরবরাহ করছেন।
এ বিষয়ে ভিজিটর বাপ্পী জানান, অতীতে যে তহবিল ছিল তা উপ-পরিচালকের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. গৌতম চন্দ্র রায় বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম সেলিম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা ছিল না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।