

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থান নিয়ে তা প্রতিহত করছে। শনিবার (৬ জুন) দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা চালানো হলেও বিজিবির বাধার মুখে প্রায় ১০০ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, হিলি, মেহেরপুর ও লালমনিরহাট সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বিজিবি এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করে। সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ি হাটপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভোরে ৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ওই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। পরবর্তী পতাকা বৈঠকে বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করে এবং শূন্য রেখায় অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
দিনাজপুর হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়েও ৫ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
লালমনিরহাটের চারটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। টানা ১৯ ঘণ্টা পর তাদেরও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্তের শূন্য রেখায় পুশইন হওয়া ১০ জন দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অধিনায়ক পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এদিকে, বান্দরবানের রেমাক্রি এলাকায় মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ করা খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭ জনকে বিজিবি হেফাজতে নিয়ে পরে পুশব্যাক করেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।